ট্রাম্পের পদক্ষেপে ‘চোখ–কান’ হারাচ্ছে সমুদ্র গবেষণা
৮ জুন পালিত হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস, যা পৃথিবীর ৭১ শতাংশ ভূমি আচ্ছাদনকারী মহাসাগরের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত হয়। এই দিনটির ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য 'পুনঃকল্পনা'—অর্থাৎ মহাসাগরের প্রতিবেশ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। মহাসাগর পৃথিবীর অক্সিজেনের অন্তত ৫০ শতাংশ উৎপাদন করে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বৈশ্বিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক (গস) এর একটি প্রধান অংশ হিসেবে কাজ করা ওশান অবজারভেটরিজ ইনিশিয়েটিভ (ওওআই)-এর বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থা সমুদ্রের তলদেশ, পানির নিচের গ্লাইডার ও ভাসমান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এবং বিশ্বব্যাপী গবেষক, নীতিনির্ধারক ও নাবিকদের কাছে তথ্য প্রেরণ করে। ইউরোপীয় ও মার্কিন বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এই ব্যবস্থা বন্ধ হলে আবহাওয়া ও এল নিনোর পূর্বাভাসের সঠিকতা মারাত্মকভাবে কমে যাবে, যা ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ও আগাম সতর্কতাব্যবস্থাকে দুর্বল করবে। গবেষণা দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা হারালে সমুদ্রের তাপমাত্রার হিসাবের ভুলের মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমুদ্র অর্থনীতি একটি অস্তিত্বগত প্রশ্ন, কারণ দেশের ৭১০ কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশি দেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ের ফলে বাংলাদেশ তার ন্যায্য সমুদ্রসীমা ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, যা তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও মৎস্য উন্নয়নের জন্য একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এই সম্পদ থেকে নীল অর্থনীতির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে।
কোন পত্রিকা কীভাবে লিখেছে
প্রতিটি পত্রিকা কোথায় দাঁড়িয়েছে