জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ
বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ জাতীয় উন্নয়নের একটি প্রধান পূর্বশর্ত। গত কয়েক দশকে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হাসিল করেছে দেশ, যার মূল ভিত্তি হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত 'গ্রাম ডাক্তার' কর্মসূচি। কিন্তু এখন উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে 'নীরব ঘাতক' হিসেবে পরিচিত এই রোগে দেশের প্রায় ২৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আক্রান্ত, যার মধ্যে অধিকাংশ জানে না যে তাদের রক্তচাপ উচ্চ। এছাড়াও দেশে একটি সুসংগঠিত প্রি-হসপিটাল ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস ব্যবস্থা নেই, ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো অবস্থায় রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পায় না। অসংক্রামক রোগের কারণে দেশের মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশের বেশি ঘটে, যার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ। একই সময়ে, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি সরাসরি রোগীর পরিবারের পকেট থেকে ব্যয় হয়। অন্যদিকে, তামাক ব্যবহার অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। দেশে প্রায় ৩.৭৮ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহার করেন এবং প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। ১৫-২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ১০.৩ শতাংশ। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন, যাতে তরুণদের ধূমপান নিরুৎসাহিত করা যায় এবং স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক লাভ হয়। প্রস্তাবিত দাম হিসেবে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম যথাক্রমে ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কোন পত্রিকা কীভাবে লিখেছে
প্রতিটি পত্রিকা কোথায় দাঁড়িয়েছে